প্রচ্ছদ

চাঞ্চল্যকর গোলাপগঞ্জের সাবেক চেয়ারম্যান ফজলুর রহমানকে পরিকল্পিত হত্যা,নির্দেশ দাতা কে?  

20 June 2019, 08:50

গোলাপগঞ্জের ডাক

হেলিম আহমদঃ সিলেটের গোলাপগঞ্জ থানাধীন সাবেক সুনামধন্য চেয়ারম্যান ফজলুর রহমানকে ট্রাক দিয়ে দুর্ঘটনার মাধ্যমে অত্যন্ত পরিকল্পিত ভাবে ২০১৮ সালের আগষ্ট ৮ সকাল ৯.৩০ মিনিটের সময়,হেতিমগঞ্জ চৌমুহিনীর নিকটে হত্যা করা হয়।
এতই পরিকল্পিত ছিল যে,তৎকালিন গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একে এম ফজলুল হক  শিবলির গড়িমসি,ঘাতক ড্রাইভারকে তাড়াহুড়ো করে কোর্টে প্রেরণ।

তদন্তের বিষয় টালবাহানা,পারিবারিক ভাবে মামলা দিতে চাইলে,তিনি মামলা জি ডি করতে অসম্মতি, বলেছেন এটা একটা দুর্ঘটনা মাত্র,সরকারি মামলা হয়েছে,আরেকটা মামলার প্রয়োজন নেই।

শিবলির এহেন আচরণে,সাংবাদিক হেলিমের সন্দেহ হয়,এমনকি আলাপকালে শিবলিকে উদাসীন মনে হয় তখন।

সাংবাদিকের সন্দেহ ঘনি ভুত হতে থাকে,কাউকে কিছু না বলে,হেলিম নিরবে একের পর এক তথ্য সংগ্রহ শুরু করেন।সন্দেহের দানা।

১.বিশাল ট্রাক এ সময় এ রোডে চলাচল কেন, যা বেআইনি,ধরে নিলাম উৎকোচ মাধ্যমে আসতে পারে,যদি তা-হয় তবে ট্রাকে মালামাল থাকতো,কিন্তু ট্রাকের কোন লোড ছিল না,অর্থাৎ শুধু ঘাতক দু’জন।

২.পুলিশ কেন ঘাতক ড্রাইভারকে তাড়াহুড়ো করে কোর্টে চালান করে।
৩.মামুলি সরকারি ডায়েরি করে,ভালভাবে জিজ্ঞাসাবাদ ও করেনি কেন পুলিশ।
৪.এত ভোর বেলা,সিলেটের জকিগঞ্জ সড়কটি ফাঁকা ছিল,তাছাড়া সড়ক বেশ চওড়া। তাহলে কেন ছোট একটি সি এন জি কে ধাক্কা দিবে। সন্দেহ ঘনি ভুত হয়।কে থাকে হাসপাতালে নিয়ে গেল,কোন হদিস নেই। মোটামুটি নিশ্চিত এটা নিছক হত্যা।

সাংবাদিক শুরু করেন একা একা তথ্য সংগ্রহের অভিযান,তথ্য সংগ্রহের স্বার্থে,কাউকেই বুঝতে দেননি যে তিনি তথ্য সংগ্রহ করছেন,দেশে স্বল্প সময় অবস্থান কালে,সকল আলামতের ভিত্তিতে ধারণা সুনামধন্য চেয়ারম্যানকে কুপরামর্শ করে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

হেলিম দেশে থাকা অবস্থায়ই উত্তর আমেরিকা প্রথম আলোতে,দুর্ঘটনা না হত্যা শিরোনামে রিপোর্ট ছাপা হয়।এবং পরিবারের পক্ষ থেকে মামলাটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্তের দাবী উত্তাপিত করা হয়।

বছরের কাছাকাছি সময় তদন্তের অতিবাহিত হওয়ার পর,ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অপসারণ হওয়ার পর,গেল সপ্তাহে পুলিশ আদালতে একটি চার্জশিট দাখিল করেছে মূল হত্যার নায়ক,নির্দেশ দাতাকে বাদ দিয়ে চার্জশিট দাখিল করে,যা হাস্যকর।
টাংগাইলের ঘাতক,বা পরিচালক চেয়ারম্যানের শত্রু না,তারা দশ লক্ষ টাকার বিনিময়ে চেয়ারম্যানকে হত্যা করে।নির্দেশ দাতা ছাড়া এটা বিচার কিভাবে হবে,এ প্রশ্ন পরিবারের ও এলাকাবাসীর।
মামলাটি র‍্যাবের কাছে হস্তান্তরের জোর দাবী পরিবারের,এলাকাবাসীর,সচেতন মহলের,ও প্রবাসী গোলাপগঞ্জবাসীর। এ জঘন্য নির্মম হত্যাকাণ্ডটি সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে,গোলাপগঞ্জবাসী সহ সচেতন প্রবাসীরা মানব বন্ধনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

লেখকঃ 
হেলিম আহমদ,সাবেক সাধারণ সম্পাদক জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন,সাধারণ সম্পাদক নিউইয়র্ক গোলাপগঞ্জ সোসাইটি, ও সাংবাদিক।

  •  
  •  

সর্বশেষ খবর