প্রচ্ছদ

সহপাঠীদের হাতে খুন হওয়া গোলাপগঞ্জের তুহিনের পরিবারে শোকের মাতম..ভিডিওসহ

২৫ জুলাই ২০১৯, ২৩:২১

গোলাপগঞ্জের ডাক
কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দে সহপাঠিদের হাতে খুন হওয়া মা-বোনের আহাজারি। উপরে নিহতের ফাইল ছবি..

সেলিম হাসান কাওছার::  কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সহপাঠিদের হাতে খুন হওয়া তানভির হোসেন তুহিন (১৯) এর জানাজা শেষে দাফন করা হয়েছে। তুহিনের নৃশংস হত্যার ঘটনায় গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষিপাশা ইউনিয়ন সহ পুরো উপজেলা নেমে এসেছে শোকে ছায়া। তাকে বিদায় জানাতে জানাজায় যোগ দেন সহপাঠীসহ অসংখ্য শোকার্ত মানুষ।

লাশ দেখে সহপাঠীরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। নিহত তুহিন গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষীপাশা ইউপির কোনাচর দক্ষিণভাগ পলিতাপর গ্রামের সৌদি প্রবাসী মানিক মিয়ার ছেলে। সিলেট এমসি কলেজের ডিগ্রির প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

গেল রমজান মাসে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কম্পিউটার বিভাগে ৬মাসের কোর্সে ভর্তি হয়। সে দুই ভাই বোনের মধ্যে ছোট ছিল। তার একমাত্র বড় বোন ছাবেরা খানম উর্মিও সিলেট এমসি কলেজের অনার্স ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী। গতকাল বৃহস্পতিবার বাদ আছর লক্ষীপাশা ইউপির কোনাচর শাহজালাল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে তানভির হোসেন তুহিনের জানাজা সম্পন্ন হয়। জানাজায় নামাজ পড়ান-নিহতের চাচা মাওলানা জয়নাল আবেদীন।

পরে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার তুহিনের এ্যাম্বুলেন্সবাহী লাশ ময়না তদন্ত শেষে দুপুর ২টায় বাড়ীতে পৌছার পর দেখা যায় এক হৃদয় বিদারক দৃশ্য। তুহিনের মমতাময়ী মা ও বোনের কান্নায় আকাশ-বাতাশ ভারী হয়ে উঠে। তাদের কান্নায় চোখ ভিজে উঠে স্বজন ও সমবেদনা জানাতে আসা মানুষের।

বিকাল ৫টায় লাশ জানাজার জন্য বের করার সময়-মা আর বোন উর্মি হাউমাউ করে কাঁদছিল। এসময় স্বজনদের তারা বলছিলেন আমার তুহিনকে নিয়ে যাবেন না। আমার তুহিনকে এনে দাও। নিহতের কক্ষে নেই তুহিন। সেই কক্ষে আছে শুধু তুহিনের কাপড়-ছোপড়,বই খাতা আর আসবাপত্র। আর তারই কক্ষে মা ও একমাত্র বোন আহাজারি করছেন। বাবা-মায়ের একমাত্র ছেলে ছিল সে।

তাই যেন সবচেয়ে বেশি আদরেরও। সহপাঠিদের ছুরিকাঘাতে তুহিনের মৃত্যুতে পুরো বাড়ি স্তব্ধ হয়ে গেছে! পরিবারের সদস্যরা সবাই মুষড়ে পড়েছেন। অকালে বুকের ধন হারিয়ে দিশেহারা তার বাবা-মা ও বোন। তবে নিহত তুহিনের বাবা মানিক মিয়া দেশে নেই।

এ ঘটনায় নিহত তুহিনের কয়েকজন (সহপাঠি) ঘনিষ্ট বন্ধুও গুরুত্বর আহত হন। এ ঘটনায় আহত হওয়া একই ইউনিয়নের শ্রীবহর গ্রামের মৃত মাতাব মিয়ার ছেলে জিহাদ আহমদের জ্ঞান ফিরার পর বিকাল সাড়ে ৪টায় বন্ধু তুহিনের লাশ দেখতে এসে কাঁদতে কাঁদতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যান।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তার জ্ঞান ফিরেনি। নিহতের বাড়ী থেকে লাশ বের করার সময় হাজির হয় ওই ঘটনায় আহত লক্ষিপাশা কতোয়ালপুর গ্রামের রেদওয়ান আহমদ। সেও তার বন্ধুর লাশ দেখার পর কাঁদতে কাঁদতে বলে- আমাকে আরো তারা মারলো না কেন। বন্ধু তকে এভাবে মারলো কেনো। নিহতের সহপাঠি এজাজুল হক জানায়,নিহত তুহিনের জুতা নিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র এ ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৪জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে তুহিনের জুতা লুকানো হয়।

এ ঘটনার মূল অভিযুক্ত নিহতের জুতা লুকানোর পর স্যারের সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পরে স্যার বিষয়টি মিমাংসাও করে দেন। পরে দুপুর প্রায় ১২টা ৪০ মিনিটে তুহিন তার কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে ক্যান্টিনে নাস্তা করতে গেলে এ ঘটনা ঘটে। এর আগ থেকেই খুনিরা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ক্যান্টিনের সামনেই দেশিয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নিয়ে ছিলো।
এব্যাপারে মোগলাবাজার থানার অফিসার ইনচার্জ আখতান হোসেনের সাথে আলাপ করা হলে তিনি বলেন- ঘটনায়দিন রাতেই নিহতের চাচা নাজিম উদ্দিন বাদী হয়ে মোগলাবাজার থানায় ১০জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করে। রাতেই তাহের আহমদ নামে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের এক শিক্ষার্থীকে গোটাটিকর এলাকা থেকে আটক করা হয়। সে ওই মামলার ২নং আসামী।

কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সিসি ক্যামেরায় খুনের দৃশ্য,নিহতের বাড়ীতে শোকের মাতম,বন্ধুর আহাজারি, তুহিনের ক্ষত বিক্ষত লাশ দেখে অজ্ঞান হয়ে পড়া এক বন্ধুর লাশ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ও এক বন্ধুর আহাজারি।

 

  •  
  •  

গরু ছাগলের হাট

সর্বশেষ খবর