প্রচ্ছদ

কে এই আবদুস সালাম মেম্বার?

২১ নভেম্বর ২০১৯, ২০:৫০

গোলাপগঞ্জের ডাক

ডাক ডেস্কঃ  সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ডর সদস্য আবদুস সালাম। তিনি চারিগ্রামের মৃত মহিবুর রহমান ঢালইর ছেলে।

সম্প্রতি এক যুবককে বর্বরভাবে পেটানোর ভিডিও ভাইরাল হবার পর থেকেই আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে চলে আসেন। এরপর বৃহস্পতিবার (২১ নভেম্বর) ভারতে পালিয়ে যাবার সময় কানাইঘাটের কারাবল্লা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

তবে এই প্রথমই তিনি নির্যাতন করেন নি। বরং এর আগে একাধিকবার বিভিন্ন মানুষকে নির্যাতন করেছেন বলে অভিযোগ করছেন এলাকাবাসী। এছাড়া এলাকায় নিজস্ব বাহিনীর মাধ্যমে দখলদারিত্ব, নির্যাতন, জমি দখল, নারী কেলেঙ্কারিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

পুলিশ বলছে সম্প্রতি যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে সেটি প্রায় তিন মাস আগের। তিন মাস আগে নির্যাতন করা হলেও বিষয়টি নিয়ে থানায় মামলা কিংবা অভিযোগ জানাতে পারেন নি নির্যাতনের শিকার গিয়াস উদ্দিন (৩৫)। কারণ এলাকার সবাই জানে মেম্বার আবদুস সালামের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে কি হয়। সেজন্য তাঁর ভয়ে সবাই চুপ থাকে। এমনকি এলাকায় প্রচলিত আছে, পুলিশের সঙ্গে বিশেষ সখ্যতার জন্যই মানুষ আবদুস সালামকে আর বেশি ভয় পায়।

এখানেই শেষ নয় আবদুস সালামের অপকর্মের ফিরিস্তি। জকিগঞ্জের আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘর প্রায় ছয় বছর ধরে দখল করে আছেন তিনি। সেই ঘরকে তিনি বানিয়েছেন নারী আর মাদকের আখড়া।

শুধু তাই নয় চলতি বছরের গত ১০ নভেম্বর আটগ্রামের আশ্রয়ণ কেন্দ্রের বাসিন্দা আব্দুল মান্নান বিতুলকে পিটিয়ে হত্যা করে মুখে বিষ ঢেলে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার অভিযোগ আছে সালাম মেম্বারের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে নিহতের চাচাত ভাই শাকিল আহমদ পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোন লাভ হয়নি। জকিগঞ্জ থানা পুলিশ নেয়নি কোন মামলাও।

১৪ নভেম্বর সিলেটের এসপির বরাবর লিখিত অভিযোগে শাকিল আহমদ বলেন, চাচাতো ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে কান্না করলে ছালাম মেম্বার তাদের বলেন, যদি কান্নাকাটি করেন তাহলে তাদের হত্যা মামলায় জড়াবেন। তাদের তিনি নিশ্চুপ থাকতে বলেন। পরদিন ছালামসহ পাঁচজন এশার নামাজ চলার সময় চুপিসারে মাইকিং না করে অন্ধকারে বুতুলের মরদেহ দাফন করেন। এ ব্যাপারে বুতুলের চাচাতো ভাই শাকিল মুখ খুললে মেরে ফেলার হুমকি দেন অভিযুক্ত ইউপি সদস্য। তিনি প্রাণ রক্ষার্থে পুলিশ সুপারের আশ্রয় কামনা করেন।

লিখিত অভিযোগে সালাম মেম্বারের নানা অপকর্মের বিস্তারিত বর্ণনা তুলে ধরে বলা হয়, সালাম মেম্বার আশ্রয়ণ কেন্দ্রটি তার কব্জায় রেখে নারী ও মাদকের আখড়ায় পরিণত করেছেন। পুলিশের সাথেও রয়েছে তার সখ্যতা। কেউ সালাম মেম্বারের অপকর্মের প্রতিবাদ করলে তিনি তাদের শায়েস্তা করেন বিভিন্নভাবে। ইতিপূর্বে অভিযোগকারীকে মারধোর করে বসত ঘরে আগুন দিয়ে তার স্ত্রী ও সন্তানকে মেরে ফেলা হয়েছে। তার নিহত ভাইয়ের স্ত্রীর সাথে অনৈতিক সম্পর্ক ছিল সালাম মেম্বারের। এই ঘটনার প্রতিবাদ করায় তাকে জীবন দিতে হয়েছে।

জকিগঞ্জ আশ্রয়ণ কেন্দ্রের একাধিক বাসিন্দা জানান, আশ্রয়ণ কেন্দ্রের একটি ঘর প্রায় ছয় বছর ধরে দখলে রেখে সেখানে নারী রেখে অসামাজিক কার্যকলাপ চালিয়ে আসছেন। সরকারি জায়গা ও কেন্দ্রের পুকুর দখল করে তার অপকর্মের বাধ্যগতদের মাঝে বিতরণ করে দিয়েছেন। আশ্রয়ণ কেন্দ্রের যে কোনো নারীরই তার কুদৃষ্টি থেকে রেহাই পায়নি। সে শক্তি প্রয়োগ করে তাদের সাথে সে অবৈধ কাজে লিপ্ত হতে বাধ্য করে।

সংখ্যালঘু পরিবারের এক সদস্য জানান, সালাম মেম্বারের নির্যাতনে তার ভাই ১০ বছর যাবত পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

এ বিষয়ে জকিগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায় বলেন, নির্যাতনের ভিডিওটি আগের হলেও আমরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। এছাড়া অন্যান্য অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

  •  
  •  

সর্বশেষ খবর