প্রচ্ছদ

সিলেটে কিডনি রোগীদের চিকিৎসাসেবার দরজা খুলছে

১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৮:৩৭

গোলাপগঞ্জের ডাক

সেলিম হাসান কাওছার::  সিলেটে অসহায় ও দুস্থ কিডনি রোগীদের সহজে চিকিৎসাসেবার দরজা খুলছে। প্রতি বছর শত শত মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণ করছেন। সিলেটে এখন অনেক কিডনি রোগী থাকলেও রয়েছে উন্নতমানের চিকিৎসার অভাব। আবার কেউ অর্থের অভাবে কিডনি এবং লিভার রোগে আক্রান্ত হয়ে ধুঁকে ধুঁকে মারা যান। অনেকের পরিবার ব্যয় বহন করতে নিঃস্ব হয়ে পড়ে। প্রায় সময়ই সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় দেখা বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন অসহায় কিডনি রোগীদের জন্য সাহায্য তুলে থাকে। যাদের ভালো চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য আছে, তারা জীবন বাঁচানোর তাগিদে রোগীদের নিয়ে ছুটে যান ঢাকায় কিংবা পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে কিংবা অন্যকোনো দেশে। যাদের সামর্থ্য নেই তারা মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরেন।
কিডনি রোগীদের এমন দুরাবস্থা থেকে মুক্তি দিতে যাত্রা শুরু করছে জাতীয় কিডনি ফাউন্ডেশন সিলেট শাখা। ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সিলেটের অসহায় কিডনি রোগীরা অল্প খরচে চিকিৎসা নিতে পারবেন। সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে সকল শ্রেণি পেশার মানুষ চিকিৎসা নিতে পারবেন। এটি চালু হলে কিডনি চিকিৎসার জন্য আর সিলেটের বাইরে যেতে হবে না। গরিব ও দুস্থ রোগীরা স্বল্পমূল্যে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিনামূল্যেও চিকিৎসা সুবিধা নিতে পারবেন।
সিলেট শহরতলির টুকেরবাজাস্থ সিলেট-বাদাঘাট সড়কের নাজিরেরগাঁও নামক স্থানে ২ বিঘা জায়গায় ১০ তলা বিশিষ্ট ১১০ শয্যার কিডনি হাসপাতাল ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে স্থাপিত হচ্ছে। এটিই হবে সিলেটে প্রথম ও একমাত্র আন্তর্জাতিকমানের স্বয়ংসম্পূর্ণ কিডনি হাসপাতাল। জাতীয় কিডনি ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। পর্যায়ক্রমে এটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। ফাউন্ডেশন অ্যান্ড রিচার্স হসপিটালের মাধ্যমে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। কাজ শেষ হওয়ার পর ২০২২ সালের মধ্যে হাসপাতালটি উদ্বোধন হওয়ার কথা রয়েছে।
ডা. সাকিব উজ জামান আরেফিন বলেন, হাসপাতালটি চালু হলে কাউকে সিলেট থেকে অন্য কোথাও যেতে হবে না। নগরীর শুকরিয়া মার্কেটের ব্যবসায়ী জিয়াউল হক বলেন, হাসপাতালটি চালু হলে সিলেটে আরো একধাপ এগিয়ে যাবে। বিশেষ করে গরিব লোকদের সহায়তা হবে। প্রায় সময়ই সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় দেখা বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন অসহায় কিডনি রোগীদের জন্য সাহাজ্য তুলছে।
এ বিষয়ে কিডনি ফাউন্ডেশন সিলেটের প্রধান নির্বাহী ফরিদা নাসরীন জানান, আগামী জানুয়ারি মাসে হাসপাতালের নির্মাণ কাজ চালু করা হবে। কিডনি রোগ শনাক্ত করার জন্য প্রিটেনিং পরীক্ষার মূল্য ১৪০ টাকা ও ইউরিনারি পরীক্ষা ১৪০ টাকা নেয়া হবে কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতালে।
এ ব্যাপারে কিডনি ফাউন্ডেশন সিলেটের সাধারণ সম্পাদক বীরপ্রতীক কর্নেল এম এ সালাম (অব) এবং কিডনি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফেরদৌস রশীদ জানান, ২০১৮ সালের ২০ জুলাই নগরীর শাহজালাল উপশহরে ডি বøকের মেইন রোডে মাল্টিপ্ল্যান শাহজালাল সিটির সৈয়দ প্লাজায় কিডনি ফাউন্ডেশন সিলেটে আনুষ্ঠানিক ভাবে যাত্রা শুরু করে। শুধু ঢাকার কিডনি ফাউন্ডেশন দিয়ে দেশের সকল কিডনি রোগীর চিকিৎসা দেয়া সম্ভব নয়।

এজন্য শহরতলির টুকেরবাজাস্থ সিলেট-বাদাঘাট এলাকায় শত কোটি টাকা ব্যয়ে কিডনি হাসপাতাল করা হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হচ্ছে-গরিব মানুষের উপকার করা। কাজ শেষ হলে ২০২২ সালের মধ্যে হাসপাতালটি উদ্বোধন করা হবে।
এর আগে চলতি মাসের ১৯নভেম্বর কিডনি ফাউন্ডেশন সিলেট-এর উদ্যোগে দিনব্যাপি এক বৈজ্ঞানিক কর্মশালায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেটে হাসপাতাল হচ্ছে বলে আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণা দেওয়া হয়।
বর্তমানে নগরীর শাহজালাল উপশহরে কিডনি ফাউন্ডেশনে কিডনি রোগের বিভিন্ন ধরনের সেবা দেয়া হচ্ছে। এখানে কিডনি রোগীর ২৬টি পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। এসব রোগ পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয় ৭০ টাকা থেকে ৪২০ টাকা পর্যন্ত। গøুকোজ ৩০ টাকা, ইউরিয়া ১৪০, ক্রিয়েটিনাইন ৪০, ইলেক্ট্রোলাইট ৩৮৫, মোট প্রোটিন ১৫৪, অ্যালবামিন ১৫টি বিলিলুবিন ১০৫, এসজিপিটি (এলটি) ১৪০, ক্যালসিয়াম ১৪০, ফসফেট ১৪০, ইউরিক অ্যাসিড ১৪০, কোলেস্টেরল ১৭৫, এইচডিএল-সি ১৪০, এলডিএল-সি ১৪০, ট্রাইগিøসারাইড ১৭৫, প্রোটিন ক্রিয়েটনাইন অনুপাত ৩৪৫, অ্যালবামিন ক্রিয়েটিনাইন অনুপাত (এসিআর) ৩৫০, মূত্র আর/এম/ই ৭০, হিমোগেøাবিন ৭০, এবিসি ২৮০, ইএসআর ৭০, মরফোলজি আরবিসি ৭০, রক্ত, ফিল্ম ১১৫, রক্তের গ্রæপিং ৭০, স্ক্রিনিংয়ের সাথে রক্তের ক্রস ম্যাচ (এইচবিএসএজি, এইচসিভি, এইচআইভি, এমপি, সিফিলিস) ৪১৪, এইচবিএ ১সি ৪২০ টাকা। কিডনি ফাউন্ডেশনের বর্তমান শাখায় মোট ৪জন ডাক্তার রয়েছেন।
জটিল রোগীদের দেখার জন্য ৫-৬ মাস পর পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তাররা আসেন। তবে কিডনি ফাউন্ডেশনের বর্তমান শাখায় প্রতিদিন কতজন রোগী আসেন এবং কোনো ধরণের রোগী আসেন বিভিন্ন পদে দায়িত্বে থাকা লোকদের মোবাইলে ফোন দিলে সকলের ফোন একজনই রিসিভ করেন। তিনি বলেন, সরাসরি আসার জন্য। গতকাল সোমবার দুপুরে ওই প্রতিষ্ঠানে গেলে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এসময় ফাউন্ডেশনের ম্যানেজার বলেন, আমাদের সকল তথ্য ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে। আপনি সেখান থেকেই নিতে পারেন। ফাউন্ডেশন হাসপাতালের ক্লিনার ও ওয়ার্ডবয়ের সাথে আলাপ করা হলে তারা জানায়, প্রতিদিন গড়ে ১০-১২ জন রোগী আসেন এবং প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করার পর লন্ডন থেকে একবার ডাক্তার এসেছিলেন। আর ডাক্তাররা সকালে এসে চলে যান।

সূত্র-দৈনিক সবুজ সিলেট

  •  
  •  

সর্বশেষ খবর