প্রচ্ছদ

গোলাপগঞ্জের ক্যাপটেন রুকনুজ্জামান চৌধুরী ও তাঁর সফলতা

১৩ ডিসেম্বর ২০১৯, ১০:০৬

গোলাপগঞ্জের ডাক

সেলিম হাসান কাওছার: স্বপ্ন পূরণে কত চেষ্টা। এগিয়ে যাওয়ার শত প্রত্যয়। অনেক বাধা-বিপত্তি তবুও এগিয়ে যেতে হবে। কেউ সফলতার উচ্চশিহরে স্থান করে নেন নিজ শ্রমে আর কেউ পিছু হঠতে হয়-জীবন এমনই-যেন সফলতা আর ব্যর্থতার মাঝেই ছন্দ খোঁজে।

এমন একজন সফল ব্যক্তি বাংলাদেশী বংশদূত ক্যাপটেন রুকনুজ্জামান চৌধুরী। স্বপ্ন দেখেছেন, দিয়েছেন শ্রম, আর তাই আজ তিনি একজন সফল মানুষ। সঠিক সিদ্ধান্ত আর দক্ষতার পরিচয় নিয়ে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন ভিয়েতনাম জাতীয় এয়ারলাইন্সে।

পাইলট ক্যাপটেন রুকনুজ্জামান চৌধুরী শুধু ভিয়েতনা নয়’ ৫৯ বছর বয়সে তিনি বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে আন্তর্জাতিক পাইলটের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি গোলাপগঞ্জ পৌরসভার মৃত আব্দুল লতিব চৌধুরী (প্রয়াত সামরিক কর্মকর্তা) ছেলে।

 

ক্যাপটেন রুকনুজ্জামান চৌধুরীর শিক্ষাজীবন শুরু হয় ঢাকা সেনানীবাস থেকে। তিনি ঢাকার আদমজি সেনানীবাস কলেজ থেকে আই.এসসি পাস করে পাইলট ট্রেনিংয়ের জন্য ভর্তি হন।

১৯৭৭ সালে অস্টেলিয়ায় যান উচ্চত্বর পাইলটের ডিগ্রি অর্জনের জন্য। প্রায় দেড়বছর ট্রেনিং শেষে সেই দেশে চাকরিও পান। ১৯৯২ সালে বাংলাদেশে বসবাসরত উনার বাবা অসুস্থ হয়ে পড়লে বাবাকে দেখা শোনা করার জন্য দেশে ফিরেন। এরপর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে পাইলট হিসেবে যোগ দেন।

২০০১ সালে তাঁর বাবা মারা যান আর তিনি বাংলাদেশও ত্যাগ করে কাতার এয়ারলাইন্সের এয়ারবাস (৩৩০) উড়োজাহাজে চাকরি নেন। এই উড়োজাহাজ সম্পূর্ণ ভিন্ন রকমের ছিল, উড়োজাহাজটি কম্পিউটারের মাউছের ন্যায় পরিচালিত হয়।

তিনিই প্রথম বাংলাদেশি এই উড়োজাহাজ চালানোর সুযোগ পান। ২০০৯ সাল পর্যন্ত কাতার এয়ারলাইন্সে কর্মরত ছিলেন।

এরপর মালয়েশিয়ার এয়ারলাইন্স, এয়ার এশিয়াতে যোগদান করেন। ২০১৪ সালে বিশেষ সুযোগ সুবিধায় ভিয়েতনাম জাতীয় এয়ারলাইন্সে যোগ দেন। বর্তমানে ওই দেশেই কর্মরত আছেন।

 

সেই দেশে চাকরির চুক্তি শেষ হলে তুরষ্কের এয়ারলাইন্সের পাইলট হিসেবে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। পাইলট ক্যাপটে রুকনুজ্জামান চৌধুরীর বাড়ি গোলাপগঞ্জে হলেও তাঁর জন্ম ঢাকার সেনানিবাস এলাকায়।

 

১৯৫৯ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবাও সামরিক ইঞ্জিনিয়ার (এম. ই.এস) কর্মকর্তা ছিলেন। গত অক্টেবর মাসে তিনি বিশেষ ছুঁটি নিয়ে বাবার জন্ম মাঠিতে আসেন।

তিনি দেশে আসার মূল কারণ সম্পর্কে বলেন আমার বাবার জন্ম মাঠিতে  অন্ধ শিশু কিশোরদের জন্য ইসলামী দ্বিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠা করতে চাই।

 

সূত্র-দৈনিক সবুজ সিলেট

  •  
  •  

সর্বশেষ খবর